পুজো আসছে দ্বিতীয় পর্ব
বিষের বাঁশি এমনভাবে ভাবনার মোড় ঘুরিয়ে দেবে তা কে জানতো?
শরতের আকাশ যখন সাদা মেঘের ভেলায় এগিয়ে চলেছে মা দুর্গতিনাশিনীর বোধনের দিনের দিকে ঠিক তখনই শুরু হয়েছে বীভৎস বিপর্যয়। প্রকৃতি দেবী ক্ষুব্ধ হয়ে বুঝি বা ঢেলে দিলেন সকলের আনন্দে এক তুমুল জলপ্লাবন।
বৃষ্টি বৃষ্টি বৃষ্টি।জল থৈ থৈ পথের কোল আর চোখের কোলও বটে।
ধ্রুব চেয়েছিল এই কটা দিন পুজোর আনন্দে মেতে ওঠা মানুষজন তার তৈরী গয়না কিনবেই কিনবে।তাই রাতের পর রাত জেগে বিভিন্ন ধরনের ক্লে আর বিভিন্ন নকশার লকেট,কানের দুল তৈরী করে ফেলেছে।এখন প্রতিদিন তার নিজের হাতে তৈরী গয়না সাজিয়ে কাঁধে তুলে নেয় লম্বা লাঠিটা।যার দু'ধারে সাজানো থাকে গয়নার বাহার।
স্কুল কলেজের সামনে,ট্রেনের কামরায়, ফুটপাতে দাঁড়িয়ে বেচাকেনা চলতে থাকে তার।এই যে ভয়াল বৃষ্টির দাপট ,তার সব আশা যেন ভেসে গেল জলের তোড়ে।
কি হবে এবার? এবারেও কি মাকে একটা নতুন কাপড় আর রান্নার একটা ভাতের হাঁড়ি কেনা হবে না? অবশ্য রোজ চালের জোগাড় হয়ে ওঠে না যার ঘরে তার নতুন ভাতের হাঁড়ির চিন্তা সাজে না বোধহয়।আসলে , ফুটপাতে সংসার যে ওর।সঙ্গী শুধু মা।
আচ্ছা এই কি সেই জগৎজননী মা? যিনি আসছেন এবার নৌকা চড়ে? না না, তিনি নন নিশ্চয়ই।ধ্রুবর বছর আটেকের বুদ্ধিদীপ্ত মন বলে----- এ মা তো বড়োলোকের মা।দেবী দুর্গা।তার জগৎজননী বোধহয় তার মায়ের মতোই বড্ড গরীব। ছেঁড়া ফেলে দেওয়া কারোর নাইটি পরে শুধু দুটো ভাত আর মুড়িই দিতে পারে।
তাই না ....
(ক্রমশঃ)
মতামত জানান প্রিয় পাঠক🙏
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন