জীবনগাথা

কি যে বলি! অনেক কথা বলবো বলে এবার আমি এলাম।যারা পড়তে চাও আমার সঙ্গে থেকো।

**********************************************

  #জীবনগাথা(১)

   ভোরের আলো ফোটার আগেই হঠাৎ কপালে আঙুলের ছোঁয়ায় ঘুমটা ভেঙে গেল।আধো চোখ মেলে দেখি ওমা তুমি! কি গো সাতসকালে ঘুম ভাঙলো যে? 

    এই তো তোমার ঘুমন্ত মুখটা দেখবো বলে।জানলার কাচের এপারে ঘরটা আবছায়া এক স্বপ্নিল লালচে হলুদ রঙে ভরে উঠেছে। বিছানায় সাদা গোলাপী রঙের গোলাপ ফুলের ছবিতে সাজানো চাদরে দুটি মানুষের অবয়ব।প্রায় এক দেহ এক মন হয়ে গভীর আশ্লেষে বিশ্বাসের আলিঙ্গনে আবদ্ধ।

 কথা নেই। নিস্তব্ধতা যেন কান পেতে আছে প্রেমের নিবিড় ছোঁয়া অনুভব করার জন্য।

     উঃ কি তাড়াতাড়ি চলছে ঘড়িটা।হাতের স্মার্ট ওয়াচটা অ্যালার্ম বাজাতে শুরু করেছে।

    ছাড়ো ছাড়ো এবার উঠি।ভাত বসাই। তোমার অফিসের সময় হয়ে যাবে দেখতে দেখতে।

     তুমি উঁ উঁ করে বাধা দিতে থাকো রোজকার মতন।

আমি তোমার হাতের বাঁধনের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসি খাটের ওপর থেকে। তারপর পিছন ফিরে বলি----- এই যে আর দেরী করলে কিন্তু তোমাকে না খেয়ে , টিফিন না নিয়ে অফিসে যেতে হবে।

     ওঃ সে থাক্ না হয় একদিন। তুমি আর একটু শুয়ে নাও। আমি ভাতটা বসাই।

  ওমা! সে কি কথা!

এত সুখ ভালো নয় মশাই। তুমি বরং আর একটু শুয়ে থাকো। আমি চা হলে ডাকবো।

  লক্ষ্ণী বৌ........

 বলেই একটা ফ্লাইং কিস এলো তোমার কাছ থেকে।

আমিও শিখে গেছি এসব।তবে,নাঃ আজ নয়।আর একদিন করবো সেটা।কি জানি ভীষণ লজ্জা করে আমার।

  যদিও আমরা নবদম্পতি নই।নয় নয় করে বিয়ের বয়স পঁচিশ।ছেলের বয়স কুড়ি।

  তবুও বড্ড ভালো মানুষটা। সারাজীবন এমন করেই ছেলেমানুষী করতেই থাকে রোজ রোজ।

      স্নানঘরে কল খুলেই মনে হলো কতদিন ঝরণা দেখি নি।এবার তোমার কাছে বেড়াতে যাওয়ার বায়না করবো। তুমি কোথায় নিয়ে যাবে? রাঁচী না কি দক্ষিণ ভারতে?

   এবড়োখেবড়ো পাথর পেরিয়ে ঝমঝম করে পড়বে ঝরনার জল। তুমি আমি কুটুন একসাথে ভিজবো।

  ওমা! কি কান্ড দেরী হয়ে যাচ্ছে যে.......


(ক্রমশঃ)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কথামালা

পুজো আসছে