পোস্টগুলি

তোমাকে দিলাম

  সেই কিশোরী বয়স থেকে তোমার জন্য অপেক্ষা। যদিও শৈশব মন কেড়েছিল সে এক অদ্ভুত আবেশ। পুরুষ নয় এক অপরূপ সৌন্দর্য আর প্রতি আকর্ষণ।সে তীব্র আকর্ষণ কখনো কখনো প্রকাশিত হয়েছে ছেলেমানুষী কথার আঁচলে।মুখ ঢেকে যেতো লালচে আভায়। সূর্যোদয়ের সে রঙ গালে নিয়ে বার বার খুঁজেছি তোমায়।   এতটাই কম বয়স তখন। সবাই শিশু বলেই তুচ্ছ করে চলতো।দিনে রাতে তোমাকে দেখার সুযোগ খুঁজেছি।দেখা পেয়েও পেয়েছি অনাদর।আসলে আদর পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারলাম না কখনো।   তাই তো তেত্রিশ বছর পার হলেও আমি নগণ্য এক অযাচিত রাজ্যের বাসিন্দা।সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে,সব ঝড়ের রাতে একলা তরী বেয়ে এসে পৌঁছেছি এক অসীম মহাসাগরের বুকে।    জীর্ণ হয়েছে তরী।ছিন্ন হয়েছে পালের রশি। অজানা অনাবিল পথের নিশানা চায় মন। খুঁজে পায় না।   কখনো কোথাও আদৌ কি সম্ভব আমার জন্য একটা আদরের পালতোলা নৌকো!  কবে যে ভাসতে ভাসতে যাত্রা শুরু হয়েছিল মনে পড়ে সেই দিনগুলো।      ভোরের আলোমাখা ছিল সে স্বপ্নগুলো। দিনগুলো ফুল হয়ে ফুটে উঠতো। সুগন্ধী নেশায় ভরিয়ে দিতো রবাহুত আশাদের।ফেলে দেয় নি তো তখন!  তব...

জীবনগাথা

কি যে বলি! অনেক কথা বলবো বলে এবার আমি এলাম।যারা পড়তে চাও আমার সঙ্গে থেকো। **********************************************   #জীবনগাথা(১)    ভোরের আলো ফোটার আগেই হঠাৎ কপালে আঙুলের ছোঁয়ায় ঘুমটা ভেঙে গেল।আধো চোখ মেলে দেখি ওমা তুমি! কি গো সাতসকালে ঘুম ভাঙলো যে?      এই তো তোমার ঘুমন্ত মুখটা দেখবো বলে।জানলার কাচের এপারে ঘরটা আবছায়া এক স্বপ্নিল লালচে হলুদ রঙে ভরে উঠেছে। বিছানায় সাদা গোলাপী রঙের গোলাপ ফুলের ছবিতে সাজানো চাদরে দুটি মানুষের অবয়ব।প্রায় এক দেহ এক মন হয়ে গভীর আশ্লেষে বিশ্বাসের আলিঙ্গনে আবদ্ধ।  কথা নেই। নিস্তব্ধতা যেন কান পেতে আছে প্রেমের নিবিড় ছোঁয়া অনুভব করার জন্য।      উঃ কি তাড়াতাড়ি চলছে ঘড়িটা।হাতের স্মার্ট ওয়াচটা অ্যালার্ম বাজাতে শুরু করেছে।     ছাড়ো ছাড়ো এবার উঠি।ভাত বসাই। তোমার অফিসের সময় হয়ে যাবে দেখতে দেখতে।      তুমি উঁ উঁ করে বাধা দিতে থাকো রোজকার মতন। আমি তোমার হাতের বাঁধনের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসি খাটের ওপর থেকে। তারপর পিছন ফিরে বলি----- এই যে আর দেরী করলে কিন্তু তোমাকে না খেয়ে , ট...

পুজো আসছে দ্বিতীয় পর্ব

 বিষের বাঁশি এমনভাবে ভাবনার মোড় ঘুরিয়ে দেবে তা কে জানতো?    শরতের আকাশ যখন সাদা মেঘের ভেলায় এগিয়ে চলেছে মা দুর্গতিনাশিনীর বোধনের দিনের দিকে ঠিক তখনই শুরু হয়েছে বীভৎস বিপর্যয়। প্রকৃতি দেবী ক্ষুব্ধ হয়ে বুঝি বা ঢেলে দিলেন সকলের আনন্দে এক তুমুল জলপ্লাবন।   বৃষ্টি বৃষ্টি বৃষ্টি।জল থৈ থৈ পথের কোল আর চোখের কোলও বটে।   ধ্রুব চেয়েছিল এই কটা দিন পুজোর আনন্দে মেতে ওঠা মানুষজন তার তৈরী গয়না কিনবেই কিনবে।তাই রাতের পর রাত জেগে বিভিন্ন ধরনের ক্লে আর বিভিন্ন নকশার লকেট,কানের দুল তৈরী করে ফেলেছে।এখন প্রতিদিন তার নিজের হাতে তৈরী গয়না সাজিয়ে কাঁধে তুলে নেয় লম্বা লাঠিটা।যার দু'ধারে সাজানো থাকে গয়নার বাহার।     স্কুল কলেজের সামনে,ট্রেনের কামরায়, ফুটপাতে দাঁড়িয়ে  বেচাকেনা চলতে থাকে তার।এই যে ভয়াল বৃষ্টির দাপট ,তার সব আশা যেন ভেসে গেল জলের তোড়ে।   কি হবে এবার? এবারেও কি মাকে একটা নতুন কাপড় আর রান্নার একটা ভাতের হাঁড়ি কেনা হবে না? অবশ্য রোজ চালের জোগাড় হয়ে ওঠে না যার ঘরে তার নতুন ভাতের হাঁড়ির চিন্তা সাজে না বোধহয়।আসলে , ফুটপাতে সংসার যে ওর।সঙ...

পুজো আসছে

 পুজো আসছে পুজো আসছে।আকাশে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে একটাই কথা। পুজো মানে যে দুর্গাপুজো সে কি আর বলতে হবে বাঙালিকে।  আসলে সারা বছর জুড়ে নানা রকম পুজোর উৎসব এখন চলতেই থাকে। তবুও,দুর্গাপুজো মানেই একটা বিশেষ আনন্দ। সত্যিই কি সকলের কাছে আনন্দ? না কি পুজোর আবহেও কোনো কোনো জীবনে বাজে বিষাদের সুর!  কে জানে হয়তো এটাই হয়ে থাকে অনেকের সাথে। চলো বন্ধু কিছু মনের কথা বলেই ফেলি তোমার কাছে। শুনবে না কি? সাড়া পেলে আসবো আমি। আজ যাই বুকের ভেতর উথাল পাথাল  মন যে আজ বিষম মাতাল বিষের বাঁশি ডাকছে দূরে  চল্ আজ তুই অচিনপুরে.............. জয়িতা ঘোষ হালদার 

কথামালা

ছবি
 #দুর্গাপুজো -২০২০   #দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরে @জয়িতা হালদার ঘোষ                 (১) ঘুম ভেঙেই সকালের রোদের আভাসে শরীর-মন স্নিগ্ধ হয়ে উঠলো উদিতার। কিন্তু পরক্ষণেই মনে হলো,আজ দশমী।বিজয়া দশমী।গত কয়েকদিনের উৎসবের শেষদিন। এরপর কি হবে?  গত দীর্ঘ সাতমাস ধরে যে কাজের অভাব ছিল,মাত্র কয়েকটা দিন তা ঘুচেছিল ,মা দুর্গার পুজোর আবহে। কিন্তু কাল থেকে কি হবে? একটা ছোট্ট বুটিকের মালকিন পুজোর জন্য বেশী লোক প্রয়োজন বলে তাকে কাজ দিয়েছিলেন, বুটিকের শাড়ি-কুর্তি-গয়নার সম্ভার ক্রেতাদের দেখানোর জন্য। কিন্তু ,পুজোর শুরু থেকেই খরিদ্দার কমছিল। গতকালই ঐ মালকিনদিদি, বলেছেন,আজই কাজটার শেষদিন।এখন তো আর এত ভিড় থাকবে না।তাই তাকেও আর দরকার নেই।আরো একজন মেয়ে আছে -- ওঁনার পরিচিত পরিবারের।তাকে দিয়েই সব কাজ চলে যাবে। একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে, ঘরের কাজ সারতে সারতে উদিতা ভাবলো আর কি-- আবার লোকের দোরে দোরে ঘুরে কাজ জোগাড় করতে হবে এবার।অসুস্থ বাবাকে‌ নূন্যতম ওষুধ খাবারটা তো দিতেই হবে তাকে। *********************************           ...